শ্রী অরবিন্দ বা অরবিন্দ ঘোষ (১৫ আগস্ট ১৮৭২ – ৫ ডিসেম্বর ১৯৫০) ভারতীয় বাঙালি রাজনৈতিক নেতা, আধ্যাত্মসাধক এবং দার্শনিক।পিতা কৃষ্ণধন ঘোষ এবং ঠাকুরদাদা রাজনারায়ণ বসু।বাল্যকালে ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে যান এবং কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাইপস পাস করেন। দেশে এসে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার কনিষ্ঠ বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে বিপ্লবী মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। (১৯০৫–১৯১১) তিনি কংগ্রেসের চরমপন্থী দলের নেতৃত্বে থাকাকালীন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শৈশব কালের জীবনঃ  

তিনি কলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন ।পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোন্নগর এর প্রাচীন ঘোষবংশের সন্তান ছিলেন তিনি ৷সংস্কৃতে “অরবিন্দ” শব্দের অর্থ হয়  “পদ্ম”।পারিবারিক পদবির বানান ইংরেজিতে সাধারণত “Ghose” হলেও অরবিন্দ নিজে “Ghosh” ব্যবহার করেছেন।তাঁর বাবা কৃষ্ণধন ঘোষ ছিলেন তৎকালীন বাংলার রংপুর জেলার জেলা সার্জন আর মা স্বর্ণলতা দেবী, ব্রাহ্ম ধর্ম অনুসারী ও সমাজ সংস্কারক রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। রংপুরে তার বাবা ১৮৭১ এর অক্টোবর থেকে কর্মরত ছিলেন, অরবিন্দ রংপুরে জীবনের প্রথম পাঁচ বছর পার করেন।১৮৭৭ সালে দুই অগ্রজ সহোদর মনমোহন ঘোষ এবং বিনয়ভূষণ ঘোষ সহ অরবিন্দকে দার্জিলিংয়ের লোরেটো কনভেন্টে পাঠান হয়।

শিক্ষাজীবনঃ 

১৮৭৯ সালে ইউরোপীয় শিক্ষালাভের জন্য দুই সহোদর সহ অরবিন্দকে বিলেতের ম্যাঞ্চেস্টার শহরে পাঠান হয় ।জনৈক রেভারেন্ড ও  শ্রীমতি ড্রিয়ুইটের কাছে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়।ড্রিয়ুইট পরিবার তিন ভাইকে ব্যক্তিগত ভাবে শিক্ষাদান করান।১৮৮৪ সালে অরবিন্দ লন্ডনের সেইন্ট পলস স্কুলে ভর্তি হন।এখান থেকে গ্রীক, লাতিন এবং শেষ তিন বছরে সাহিত্য বিশেষত ইংরেজি কবিতা অধ্যয়ন করেন।ড কে,ডি, ঘোষ ভেবেছিলেন, যে তার তিন পুত্রই ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করবেন, কিন্তু ১৮৮৯ সালে দেখা গেল বাকি ভাইয়েরা ইতিমধ্যেই ভিন্ন দিকে নিজ নিজ ভবিষ্যতের পথ বেছে নিয়েছেন , একমাত্র সবার ছোট অরবিন্দই বাবার আশা পূরণ করতে পারবেন বলে দেখা গেল ।আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বৃত্তি অর্জন ছাড়া ইংরেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা অরবিন্দের পক্ষে সম্ভব ছিলনা তাই তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কিংস কলেজের বৃত্তি পরীক্ষায় পাশ করায় তা সম্ভবপর হয়ে ওঠে। কয়েক মাস পর আইসিএস এর লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেন ২৫০ প্রতিযোগীর মাঝে ১১তম স্থান অধিকার করেন।প্রায় দুই বছর প্রবেশনের শেষে অরবিন্দ নিশ্চিত হন যে ব্রিটিশদের সেবা করার ইচ্ছা তার নেই,  তাই আইসিএস পরীক্ষায় হাজির না হয়ে ব্যর্থ হন। অরবিন্দ বিলেত ছেড়ে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন ১৮৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

বারোদার মহারাজ ৩য় সায়াজিরাও গায়কোয়াড় বিলেত ভ্রমণ করছিলেন।স্যার হেনরি কটনের ভাই জেমস কটন, যিনি কিছুদিন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং সাউথ কেন্সিংটন লিবারেল ক্লাবের সচিব ছিলেন, অরবিন্দ ও তার বাবার পূর্ব পরিচিতির সুবাদে বারোদা স্টেস সার্ভিসে অরবিন্দের চাকুরির ব্যবস্থা করেন এবং যুবরাজের সাথে অরবিন্দের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেন।অরবিন্দর বাবা বোম্বের এজেন্টের কাছ থেকে ভুল সংবাদ পান, পর্তুগালের উপকূলে অরবিন্দর জাহাজডুবি ঘটেছে। ড: ঘোষ আগেই অসুস্থ ছিলেন, এই দুঃসংবাদের ধাক্কা সামলাতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেন।

কর্মজীবনঃ 

বারোদায় অরবিন্দ স্টেস সার্ভিসে যোগদান করেন, এবং অবশেষে সচিবালয়ে গায়কোয়াড়ের জন্য বক্তৃতা লেখার কাজে নিযুক্ত হন। বারোদায় অরবিন্দ ভারতীয় সংস্কৃতির উপর গভীর অধ্যয়ন শুরু করেন, নিজ ঊদ্যোগে সংস্কৃত, হিন্দি এবং বাংলা, বিলেতের শিক্ষায় যেসব থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।অধ্যয়নে বেশি মনোযোগী হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে বারোদা কলেজে ফরাসি ভাষার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।অল্পদিনেই তিনি জনপ্রিয়তা পান অপ্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির কারণে। পরবর্তীতে কলেজের উপাধ্যক্ষের পদেও আরোহণ করেন। তিনি বারোদা থেকেই তার প্রথম কাব্য সঙ্কলন “The Rishi” প্রকাশ করেন।বাংলা ও মধ্য প্রদেশে ভ্রমণ করে বিপ্লবী দলগুলোর সাথে সংযোগ স্থাপন করেন। লোকমান্য তিলক এবং ভগিনী নিবেদিতার সাথেও যোগাযোগ স্থাপিত হয়। বাঘা যতীন হিসেবে পরিচিত যতীনাথ ব্যানার্জীর জন্য তিনি বারোদার সেনাবিভাগে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং পরবর্তীতে তাকে বাংলার অন্যান্য বিপ্লবী দলগুলোকে সংগঠিত করার কাজে পাঠান।

অরবিন্দ ঘোষের রচিত গ্রন্থ কিছু গ্রন্থঃ

  • The Life Divine
  • Essays on Gita
  • Savitri, Mother India
  • The Hero and the Nymph Urvasie
  • Song of Myrtilla and other Poems
  • The age of Kalidasa
  • A System of National Education
  • The Renaissance in India
  • Speeches of Aurobinda

বাংলা গ্রন্থ:

  • কারাকাহিনী
  • ধর্ম ও জাতীয়তা
  • অরবিন্দের পত্র