গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য (১৮৯৫-১৯৮৬) : অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর মহকুমার অন্তর্গত লােনসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা অম্বিকাচরণ, মা শশীমুখী দেবী। ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি প্রথমে পণ্ডিসরে এবং পরে নিজের গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে শতদল’ নামে একটি হাতে-লেখা পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯২১-১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বসু বিজ্ঞান মন্দিরে প্রথমে জগদীশচন্দ্র বসুর সহকারী হিসেবে কাজ করেন, পরবর্তী সময়ে গবেষকের বৃত্তি লাভ করেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা শুরুকরলেও তিনিক্রমে কীটপত্,জৈব দ্যুতি এবং শেষ পর্বে ব্যাঙাচি থেকে ব্যাং-এ রুপান্তরে পেনিসিলিনের ভূমিকা নিয়ে কাজ করেন। এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়, ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে জগদীশচন্দ্রের নির্দেশে অধ্যাপক মলিশের জৈবদ্যুতি গবেষণায় সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার মাছখেকো মাকড়সা সম্বন্ধে তার পর্যবেক্ষণ জগদীশচন্দ্রের উৎসাহে ড. করমনারায়ণ বহালের অনুমােদনক্রমে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের ১৯৩১-৩২-এর ট্রানজাকশনে প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪-৩৫ খ্রিস্টাব্দে পিপড়ে-অনুকারী মাকড়সা, টিকটিকি-শিকারি মাকড়সা সম্পর্কে তার চারটি গবেষণাপত্র যথাক্রমে বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সােসাইটির জার্নালে, আমেরিকার সায়েন্টিফিক মান্থলি, কলকাতার সায়েন্স অ্যান্ড কালচার ও বি, এন, এইচ, এস,-এ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তার ১৪টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। প্রবাসী, প্রকৃতিসহ নানান পত্রপত্রিকায় তাঁর বৈজ্ঞানিকপ্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সংগঠনী’ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে জ্ঞান ও বিজ্ঞান’-এর সম্পাদক হন, পরে প্রধান সম্পাদক ও উপদেষ্ট হন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ-এর ভারতকোষেরচারটি খণ্ড সম্পাদনার কাজে তিনি নিযুক্ত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পরিভাষা কমিটির সদস্য হিসেবে পরিভাষা প্রণয়নে অংশ নেন।

বিজ্ঞানী গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য (১লা আগস্ট, ১৮৯৫ – ৮ই এপ্রিল, ১৯৮১)। ছবিসূত্র: bigyan.org.in

গােপালচন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে অনুষ্ঠিত সামাজিক পতা বিষয়ে আস্তর্জাতিক আলােচনাচক্লেভারতীয় শাখা পরিচালনার জন্য আমন্ত্রিত হন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন, ১৯৭৪-এ বসু বিজ্ঞান মন্দিরে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। সে বছরই বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ কর্তৃক প্রথম সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ফলক প্রাপ্তিরসম্মান লাভ করেন। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলার কীটপতঙ্গা’ গ্রন্থের জন্য তিনি রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার পান। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের হীরক জয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে জুবিলি মেডেল অর্জন করেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডি. এস.সি. উপাধিতে সম্মানিত করেন। তাঁর লেখা অজস্র বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযােগ্য আধুনিক আবিষ্কার’, “বাংলার মাকড়সা, ‘করে দেখ’, ‘আমরা এবং আণবিক বােমা”, মহাশূন্যেরহস্য, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, বাংলার কীটপতঙ্গ’, ‘পশুপাখি কীটপতঙ্গ’, ‘বিজ্ঞানের আকস্মিক আবিষ্কার’, “বাংলার গাছপালা’, “বিজ্ঞান অমনিবাস’, “জ্ঞানবিজ্ঞানের নানা খবর’, ‘মানবকল্যাণে পারমাণবিক শক্তি প্রভৃতি। এছাড়াও জীববিজ্ঞান বিষয়ক ছাত্রপাঠ্য গ্রন্থ রচনাতেও তার সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *