জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭) : জগদীশচন্দ্র বসু পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়ে বি.এ. পাস করার পরে বিলেতে যান ডাক্তারি পড়তে। ১৮৮৪ সালে বি.এসসি পাস করে দেশে ফিরে আসেন। জগদীশচন্দ্রের প্রথম দিকের গবেষণার বিষয় ছিল তারের সাহায্য ছাড়াই খবর বা সংকেত কীভাবে পাঠানাে যায় তাই নিয়ে। দিনের পর দিন প্রচুর পরিশ্রম করে তিনি এমন একটি যন্ত্র তৈরি করলেন যাতে তিনি এতদিন ধরে যা চাইছিলেন তা করা সম্ভব হল। ওই যন্ত্রের সাহায্যে কোনাে তার ছাড়াই এক ঘর থেকে দূরের আর এক ঘরে সংকেত পাঠানাে সম্ভব হল। বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে বিদ্যুৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ, তারই সাহায্যে জগদীশচন্দ্র এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করেছিলেন।তার এই গবেষণার জন্য তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব সায়েন্স উপাধি লাভ করেন।

জগদীশচন্দ্র বসু

জগদীশচন্দ্র এরপর উদ্ভিদের চেতনা অনুভূতি নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন। সারা পৃথিবীকে দেখিয়ে দেন যে গাছেরও চেতনা আছে, কষ্ট আছে, যন্ত্রণা আছে। ব্রোমাইড নামে একরকম বিষ লাগিয়ে দিলে উদ্ভিদ কীভাবে প্রথমে যদ্ত্রণায় কুঁকড়ে যায় আর তারপর ধীরে ধীরে মরে যায় তা তিনি সকলের নজরে আনেন। দেশবিদেশের নানা সম্মান লাভ করেছিলেন জগদীশচন্দ্র। ১৯১৭ সালে তিনি বিজ্ঞানের চর্চা আর গবেষণার জন্যে ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। কলকাতায়। আমাদের দেশের গৌরব যারা বাড়িয়েছেন আচার্য জগদীশচন্দ্র তাদেরই একজন। তার ছাত্রদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীকালে বিজ্ঞানী হিসেবে বিখ্যাত হয়েছেন। তার বাংলা রচনা অব্যক্ত তাঁর শিল্পী মনের যথাযথ আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে Plant Responses as a means of Physiological Investigations’, “Physiology of Photosynthesis’, Nervous mechanism of Plants” ইত্যাদি। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ক্রেসকোগ্রাফ, স্ফিগমােগ্রাফ, পােটোমিটার ও ফোটোসিন্থেটিক বাবলার নামক কয়েকটি স্বয়ংলেখ যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য 
জন্মঃ ৩০ নভেম্বর ১৮৫৮ বিক্রমপুর, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ, বাংলাদেশ)
মৃত্যুঃ ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭, গিরিডি, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে গিরিডি, ঝাড়খণ্ড, ভারত)

বয়স- ৭৮ বছর
সমাধিঃ
অন্যান্য নামঃ
পেশাঃ পদার্থবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা
পিতা-  ভগবান চন্দ্র বসু
মাতাঃ
স্ত্রী/স্বামী- অবলা বসু

উল্লেখযোগ্য পুরস্কারঃ সিআইই (১৯০৩) সিএসএই (১৯১১) নাইট ব্যাচেলর (১৯১৭)