ডা. আবিরলাল মুখোপাধ্যায় (Dr. Abir Lal Mukherjee): নাক-কান-গলার প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবিরলাল মুখোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের টাঙ্গাইলে। জন্মতারিখ ২২ জুলাই, ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ। পিতার নাম বিজালাল মুখোপাধ্যায়, মাতার নাম ব্রজেশ্বরী দেবী। কর্মসূত্রে আবিরলালের পিতাকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হয়ে যেতে হত বলে আবিরলালের শৈশবও কেটেছিল বিভিন্ন জায়গায়— কখনও টাঙ্গাইলে, কখনও বরিশালে, কখনওবা কলকাতায়। সেজন্য তাঁর বিদ্যালয় জীবনও অতিবাহিত হয়েছিল বিভিন্ন জায়গার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

ডা. আবিরলাল মুখোপাধ্যায়

শৈশবে ছাত্রাবস্থায় কিছুদিন টাঙ্গাইল ও বরিশালে কাটাবার পর আবিরলাল পিতার সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন। এখানে তিনি ভরতি হন খেলাতচন্দ্র ঘোষ ইনস্টিটিউশনে। এই স্কুলে আবিরলাল শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি ছিলেন বিভূতিভূষণের প্রিয় ছাত্র। আবিরলালের জীবনে বিভূতিভূষণের প্রভাব ছিল অপরিসীম। এখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর তাঁকে কিছুকালের জন্য কলকাতা থেকে দূরে যেতে হয়। পরে আবার তিনি কলকাতায় ফিরে এসে ভরতি হন মিত্র ইনস্টিটিউশনে। এখান থেকে ম্যাট্রিক পাস করে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে ভরতি হন। প্রেসিডেন্সি কলেজের পাঠ সমাপ্ত করে তিনি ভরতি হন কলকাতা মেডিকেল কলেজে, হয়ে ওঠেন নাক-কান-গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ছাত্রাবস্থায় শুধু লেখাপড়া নয়, খেলাধুলার ব্যাপারেও যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন আবিরলাল। একসময় তিনি মেডিকেল কলেজ ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেনও ছিলেন।

চিকিৎসকরূপে কাজ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই আবিরলাল কলকাতা তথা ভারতবর্ষে নাক-কান-গলার বিশেষজ্ঞ হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পেশাগত শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য তিনি বিলেতেও গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি DLO, RCS এবং MS ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে কিছুদিন কাজও করেছিলেন তিনি। ইচ্ছে করলে বিলেতেই থেকে যেতে পারতেন, কিন্তু স্বদেশগত প্রাণ আবিরলাল বিদেশের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। দেশে ফিরে প্রথমে তিনি পিজি বা শেঠ সুখলাল কারনানি হাসপাতালে রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন।

এটিও পড়ুন – থিওফ্রাসটাস উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক -Theophrastus

এর পর তিনি বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে যোগ দেন এবং সেখানে ENT বিভাগের প্রতিষ্ঠা করেন। ALL INDIA ENT ASSOCIATION-এর সভাপতিও হয়েছিলেন আবিরলাল। এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শব্দদূষণের ওপর বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজকর্ম চালিয়েছেন। কলকাতার শেরিফ পদও অলংকৃত করেছেন তিনি। এই পদে থাকাকালীন তিনি প্রশাসকরূপে তাঁর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। লেখালেখির সঙ্গেও আবিরলালের যোগ আছে। গবেষণামূলক বা তথ্যভিত্তিক রচনা ছাড়া অন্য ধরনের রচনাতেও তিনি দক্ষ।