ফটোগ্রাফি আসলে কিঃ আলোকচিত্রশিল্প (Photography) হচ্ছে আলো বা অন্য কোনো রকম তড়িচ্চুম্বকীয় বিচ্ছুরণকে (electromagnetic radiation) কাজে লাগিয়ে টেঁকসই ছবি সৃষ্টি করার যে শিল্প, বিজ্ঞান ও পদ্ধতি।

ফটোগ্রাফি আসলে কি

কথা বার্তা শুরু করার আগে একটু জেনে নেয়া দরকার……টেকনিকাল ভাষায় বলতে গেলে একটা সময় অথবা একটা মোমেন্ট কে কোনো একটা মাধ্যমে আটকে ফেলা – এটাই সহজ ফটোগ্রাফি’র সংজ্ঞা | Photos একটি গ্রীক শব্দ – যার অর্থ হলো Light অর্থাৎ এবং Graphos – যার মানে হলো Drawing মানে আঁকা…..তাহলে Photography মানে দাড়াচ্ছে আলো দিয়ে আঁকা….এক কোথায় যেটা আমরা সবসময় শুনে থাকি “আলোকচিত্র”।

এখন আপনি যদি আলোকচিত্র ধারণ করতে চান – মানে ফটোগ্রাফি করতে চান তাহলে সবার আগে আপনার মাথায় থাকা লাগবে – “আমি কেন ফটোগ্রাফি করব?”…”আমি কি ধরনের ফটোগ্রাফি করব?”….এইটা না যে “আমি কোন ক্যামেরা দিয়ে ফটোগ্রাফি করব…?”

যখন প্রথম ফটোগ্রাফি শুরু হয় তখন একটা কালো বাক্সের মধ্যে একটি পিন দিয়ে ফুটো করে সেটার মধ্যে দিয়ে যা আলো আসত সেই আলোটাকে একটা আলোক সংবেদনশীল কাগজের উপরে আলোর বিক্রিয়া ঘটিয়ে সাদা কালো ফটো তুলা হত – সেই প্রাচীন ক্যামেরার নাম ছিল “PINHOLE (পিনহোল)” ক্যামেরা…সেই সময় থেকেই সবার মধ্যে ঢুকলো একটা জিনিস – “CAPTURE THE MOMENTS” – তখন না ছিল ক্যানন…না ছিল নিকন….না ছিল এখনকার এসব ফিচার….মেগাপিক্সেল এর বাগাড়ম্বর – অথবা সেরকম ভালো সেন্সরের কাহিনী…..

মনে রাখবেন ক্যামেরা একটা মাধ্যম মাত্র…..আপনি ফটো তুলবেন আপনার চোখ দিয়ে দেখে….আপনার মনন শক্তি ব্যবহার করে – ক্যামেরা আপনার হয়ে ফটো তুলে দিবে না – ক্লিক আপনিই করছেন…..ক্যামেরার লেন্সটা এখানে আপনার চোখের সামনে একটা মাধ্যম – যার মধ্যে দিয়ে লাইট এসে ক্যামেরা’র সেন্সরে পড়বে – একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া হবে – অথবা ইলেক্ট্রিকাল এলগরিদম হবে (ডিজিটাল ক্যামেরার ক্ষেত্রে) – তারপরে হয়ত সেটা ফিল্ম এ জমা পড়বে – নাহলে মেমরি কার্ডে…. – কিন্তু এই প্রসেস তার আগেই – আপনি কিন্তু নিজের চোখে – নিজের মনে এঁকে ফেলেছেন সেই ফটো – যেটা আপনি তুলতে চাচ্ছেন….এটাই হলো ফটোগ্রাফি!!!!

একজন আর্টিস্ট আজ থেকে লক্ষ্ বছর আগে মাটির সাথে পানি আর শিকার করা পশুর রক্ত মিশিয়ে অন্ধকার গুহায় মশালের আগুনের আলোতে গুহাচিত্র একেছিল – সেও এক অর্থে একজন ফটোগ্রাফার…পার্থক্য – সে শিকারের কাহিনীটা লেন্স আর সেন্সরের সাহায্য নিয়ে একটা ফ্রেমে বন্দী করে রাখতে পারে নি – তার কাছে কোনো ফিল্ম ছিল না – ছিল না কোনো মেমরি কার্ড – কিন্তু সে কিন্তু ঠিক পেরেছে – সেই স্মৃতি – সেই মোমেন্ট তা গুহার দেয়ালে ইতিহাসের পাতায় কালকের সাক্ষী করে রাখতে…..

এখন একবার ভাবুন তো – ফটোগ্রাফি শুরু করবেন – কিংবা হয়ত অনেকদিন হলো করছেন ফটোগ্রাফি….অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন – একজিবিশন জিতেছেন – কিন্তু আপনি পেরেছেন কি এমন একটা ফটো তুলতে – যেটা কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে?…আজকে থেকে এক হাজার বছর পরে সেই ফটো দেখে ভবিষ্যতের মানুষ আজকের পৃথিবীকে কল্পনা করবে?

এইজন্য বলছি – ক্যামেরার ব্র্যান্ড নিয়ে মাথা ঘামাবেন না….যদি শুরু করতে চান – তাহলে মোটামুটি ভালো রেঞ্জের মধ্যে একটা ক্যামেরা কিনি শুরু করে দিন….৪০-৪৫ হাজার টাকার মধ্যে আপনি Canon 550D, 600D অথবা Nikon D3200, D5100 এইসব ক্যামেরা পেয়ে যাবেন….যথেষ্ট ভালো ক্যামেরা এগুলো – অন্তত দুই বছর তো হেসেখেলে এসব ক্যামেরা দিয়ে ফটো তুলতে পারবেন…..তার পরে নাহয় নিজেকে আবিষ্কার করে যখন বুঝবেন – যে নাহ – এইটা আমার ফটোগ্রাফি’র ধরন….তাই আমার এই ধরনের লেন্স অথবা এক ধরনের ক্যামেরা লাগবে – তখন দেখে শুনে ভালো করে একটা ক্যামেরা আপগ্রেড করুন

আর ছোট্ট একটা কথা বলে শেষ করছি – শুরুতেই ডিসিশন নিবেন না যে আপনি কি ধরনের ফটোগ্রাফি করবেন….মনে রাখবেন – ফটোগ্রাফারের স্টাইল তৈরী হতে ৫/৬ বছর এমনেই চলে যায় – আর তার পছন্দের ধরন অথবা Genre ধরতে ও ভালো সময় কেটে যায় – আপনি পোর্ট্রেট তুলবেন নাকি ল্যান্ডস্কেপ….স্ট্রিট ফটোগ্রাফি করবেন নাকি মডেল ফটোগ্রাফি….ফটো জার্নালিজম এর হাল ধরবেন নাকি কমার্শিয়াল ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করবেন? – দয়া করে ক্যামেরা কিনার আগে (মানে সোজা কোথায় ফটোগ্রাফি শুরু করার আগে আরকি) এই চিন্তা করে ফেলবেন না – আগে শুরু করুন – তুলতে থাকুন যা ভাল লাগে তাই…….বাসায় টেবিল এর উপরে পড়ে থাকা কলার ছিলকে থেকে শুরু করে রাস্তায় বসে থাকা একাকী কুকুর….বন্ধুর হাস্যকর পোজ দেয়া থেকে শুরু করে একজন কৃষকের….ঠাটা পড়া রোদে জ্বল জ্বল করা পথ ঘাট থেকে শুরু করে বৃষ্টিস্নাত স্নিগ্ধ বিকেলে হাতিরঝিলের ফটো…..জাস্ট তুলতে থাকুন…..আর তার পরে?

এটিও পড়ুন – রঙ্গীন ফটোগ্রাফীর 150 বছর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *