মনমোহন সিং (Manmohan Singh) জন্ম ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩২) ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রাক্ত্ন এবং ১৪ তম প্রধানমন্ত্রী। ইনিই প্রথম শিখ ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী। পেশায় শ্রী সিং একজন অর্থনীতিবিদ।

মনমোহন সিংহ

মনমোহন সিং ছিল ভারতীয় নাগরিক তিনি, আমাদের দেশের সন্তান, মনমোহন সিং জন্মগ্রহণ করেন ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ । তাঁর বাসস্থান ছিল নয়াদিল্লিতে ।

মনমোহন সিং পঞ্জাবের গাহ (অধুনা পাকিস্তানের চকওয়াল জেলা) তে 1932 সালের 26 সেপ্টেম্বর এক শিখ পরিবারে পিতা গুরুমুখ সিং ও মাতা অমৃত কৌর এর সন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করেন. শৈশবেই তিনি তাঁর মাকে হারান এবং তাঁকে মানুষ করেন তাঁর পিতামহী যাঁর কাছে তিনি খুবই আদরের ছিলেন.তিনি খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন, যেহেতু তাঁদের গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থা ছিলনা তাই তাঁকে লন্ঠনের আলয়ে লেখা পড়া শিখতে হয়েছিল.ভারত ভাগের পর তিনি অমৃতসরে চলে আসেন.শিক্ষা ক্ষেত্রে তিনি বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ও 1952 এবং 1954 সালে চন্ডিগড়ের পঞ্জাব বিস্ববিদ্যাল্যায় থেকে অর্থনীতিতে যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী পান. অর্থনীতিতে সন্মানিক স্নাতক ডিগ্রীর লাভের জন্য তিনি সেন্ট জন্স মহাবিদ্যালয়ের একজন সদস্য হিসাবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়তে যান.(অক্সব্রিজ-এর ঐতিহ্য অনুযাই একজন সন্মানিক স্নাতক ডিগ্রী ধারী পরে মাস্টার ডিগ্রী লাভের অধিকারী হন)বৈশিষ্টপূর্ণ ফলাফলের জন্য 1955 ও 1957 সালে তিনি রাইটস পুরস্কার অর্জন করেন.মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন র্বেন্বারী ছাত্রবৃত্তি প্রাপকদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন. নযুফিল্ড মহাবিদ্যালাযায়ের ছাত্র হিসাবে তিনি 1962 সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে DPhilডিগ্রী অর্জন করেন. তাঁর গবেষণা পত্রের বিষয় ছিল “1951 থেকে 1960 এই সময় কালে রপ্তানি বানিজ্যে ভারতের ভূমিকা, রপ্তানি বানিজ্যের ভবিষ্যত ও নীতির বৈশিষ্ট সমূহ” এবং গবেষণা পত্রের পরিদর্শক ছিলেন ডক্টর আই এম ডি লিটল.এই গবেষণা পত্রের ভিত্তিতেই তিনি “ইন্দিযাস এক্সপোর্ট ট্রেন্ডস এন্ড প্রসপেক্টস ফর সেল্ফ-সাস্তেন্দ গ্রোথ” নামে একটি পুস্তক রচনা করেন।

 

মনমোহন সিংহ
মনমোহন সিংহ

1997 সালে আলবার্তো বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে আইন বিষয়ে সান্মানিক ডক্তর্স উপাধী প্রদান করে. 2006 সালের জুন মাসে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সন্মানিক Doctor of Civil Lawসাধারণ আইনের বিষয় ডক্তর্স উপাধী প্রদান করে ও সেই বছরেই অক্টোবর মাসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে একই উপাধিতে ভূষিত করে.তাঁর সম্মানার্থে সেন্ট জোনস বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর নামে, “ডক্টর মনমোহন সিং স্কলারশিপ” এই নামে একটি PhD ছাত্রবৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করে।

তিনি D.Phil – এর পড়াশোনা শেষ করার পর ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত UNCTAD -এর হয়ে কাজ করেন। ৭০-এর দশকে তিনি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং ভারত সরকারের অর্থ ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবে ছিলেন। ১৯৮২ সালে তিনি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হিসাবে নিযুক্ত হন এবং এই পদে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত আসীন ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত ভারতীয় যোজনা আয়োগ সহ সভাপতি ছিলেন ।

1991 সালে ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী, পি ভি নরসিমহা রাও শ্রী সিং কে অর্থমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করেন.সেই সময় ভারত বর্ষ এক অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন ছিল. রাও এবং সিং সেই সময় ভারতীয় অর্থনীতিকে সমাজবাদী অর্থনীতি থেকে মুক্ত পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে পরিবর্তিত করার সিদ্ধান্ত নেন. এই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ব্যবস্থা, ব্যক্তি মালিকানাধীন বাণিজ্যের স্থায়িত্য ও উন্নতির পরিপন্থী, প্রত্যক্ষ্য বৈদেশিক পুঁজি নিবেশের পথে বাধা সৃষ্টিকারী লাইসেন্স রাজ ব্যবস্থার অবলুপ্তিতে সহায়তা করে এবং সরকারী ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির ব্যক্তি মালিকানাধীনে পরিনত করার প্রক্রিয়ার শুরু হয়. এই অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ভারতের বার্ষিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কে শতকরা 3 থেকে বাড়িয়ে শতকরা 8-9 তে নিয়ে যেতে বিশেষ সহায়তা করেছে. যাইহোক, এই অর্থনৈতিক পুর্ণর্গঠন স্বত্তেও অন্যান্য সরকারি ক্ষেত্র গুলিতে অসফলতার কারণে 1996 এ রাও সরকার নির্বাচনে পরাজিত হয়।

প্রাথমিক ভাবে শ্রী সিং 1991[৩] সালে সংসদের রাজ্য সভায় মনোনীত হন এবং করে 2001 ও 2007 আবার পুনর্নির্বাচিত হন.1998 থেকে 2004 সালে পর্যন্ত যখন ভারতীয় জনতা দলের সরকার ছিল তখন শ্রী সিং রাজ্য সভাযে বিরোধী দলনেতা ছিলেন.1999 সালে তিনি লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিল্লী আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দীতা করেন কিন্তু তাতে জয়লাভ করতে পারেননি।

2004 সালের সাধারণ নির্বাচন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস লোকসভায়় সর্বাপেক্ষা অধিক আসনে জয়লাভ করে একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল রূপে প্রতিয়মান হয়ে প্রতিদ্বন্দী রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক জোট কে হতবাক করে দেয়ে, এক বিস্ময়কর পদক্ষেপের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধধ প্রগতিশীল এর সভানেত্রী, শ্রীমতিি সোনিয়া গান্ধী শ্রী মনমোহন সিং কে একজন জয় প্রয়গবিদ অ্যাখ্যা দেন ও ইউ পি এ এর তরফে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী রূপে ঘোষণা করেন.যদিও তিনি কখনো লোক সভা নির্বাচনে জয়লাভ করেননি, তবুও তাঁর অবিতর্কিত সুনাম এবং শ্রীমতি সনিয়া গাঁধীর মনোনয়ন তাঁকে UPA জোটের এবং বাাাম জোটেরর সমর্থন লাভে সাহায্য করেছে.ভারত বর্ষের মতো একটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশে, তিনি 22 মে 2004 প্রথম অহিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

তাঁর কার্যকালে সংসদে ২০০৫ সালে গুরুত্বপূর্ণ NREGA আইন ও RTI আইন গৃহীত হয়. বিভিন্ন ডিগ্রীর ক্ষেত্রে NREGA -এর সফল কার্যকারিতা এবং দেশ থেকে অশুদ্ধিতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে RTI -এর গুরুত্ব প্রমাণিত।

এটিও পড়ুন – জওহরলাল নেহেরু এর আত্মজীবনী – Jawaharlal Nehru

শ্রী সিং গুর্শরণ কৌর কে 1958 সালে বিবাহ করেন এবং তাঁদের তিনটি কন্যা সন্তান আছে .[২১] তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্ন্যা , উপিন্দর সিং দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজের|সেন্ট স্টিফেনস কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপক এবং ছটি পুস্তকের রচয়িতা যার মধ্যে “এন্সেন্ট দিল্লি”(1999) এবং “এ হিস্ট্রি অফ এন্সেন্ট এন্ড আর্লি মেদিঅভাল ইন্ডিয়া” (২০০৮).[২২] তাঁর দ্বিতীয়া কন্ন্যা দমন সিং সেন্ট স্টিফেনস কলেজ, নতুন দিল্লির একজন স্নাতক ও ইন্স্তিতিউত অফ রুরাল ম্যানেজমেন্ট}, আনন্দ, গুজরাট এবং “দ্য লাস্ট ফ্রন্টিয়ার”:পিপল এন্ড ফরেস্তস ইন মিজোরাম” এর রচয়িতা ও “নাইন বাই নাইন” নামে একটি নভেলেরও rochoitaa.[২৩] সিংের কনিথ্য়া কন্ন্যা অমৃত singh আমেরিকান সিভিল লিবারেতিস ইউনিয়ন এর একজন কর্মরত আইনজীবী [২৪] and is married to বার্টন বীবে , যিনি একজন বুদ্ধিগত সম্পত্তি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ সহ অধ্যাপক. সিং হৃদযন্ত্র ঘটিত অসুস্থতায় অসুস্থ এবং তাঁর 1990 সালে করনারী বাইপাস অস্ত্রপ্রচার ও 2004 সালে অন্জিযপ্লাস্তি অস্ত্রপ্রচার হয়.24 জানুয়ারি 2009 তে ইন্ডিয়ান ইন্স্তীতুত অফ মেডিকাল সাইন্সেস (AIIMS)- এ তাঁর দ্বিতীয় বারের জন্য বাইপাস অস্ত্রপ্রচার করা হয় এবং তখন ডাক্তারা তাঁর হৃদযন্ত্রের পূর্বেকার কয়েকটি জোরের রদবদল করেন.AIIMS এর ডাক্তারদের সহায়তায় শল্য চিকিত্সক রমাকান্ত পান্ডা পুনর্বার তাঁর বাইপাস অস্ত্রপ্রচার করেন.[২৫] 4 মার্চ 2009 শ্রী সিং তাঁর কাজে পুররায় যোগদান করেন।

  1. মনমোহন সিং ছিলেন আমাদের দেশের একজন কংগ্রেস প্রার্থী তিনি এই কংগ্রেস দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং তা আজ সফল হয়েছে।