রবীন্দ্রসিং জাদেজা ভারতের একজন বামহাতি মাঝারি সারির ব্যাটসম্যান এবং ধীরগতির বামহাতি বোলার হিসেবে ভারতীয় দলে খেলে থাকেন।ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সৌরাষ্ট্র দলের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে অংশ নেন। ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ বিজয়ী ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন জাদেজা।

রবীন্দ্রসিং জাদেজা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ-রবীন্দ্রসিং অনিরূদ্ধসিং জাদেজা(জন্ম: ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৮)গুজরাটে জন্মগ্রহণকারী। বাবা চাকরি করতেন এক বেসরকারী সংস্থার চৌকিদার হিসেবে। মা ছিলেন হাসপাতালের নার্স৷ হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক ছোট বাসায় থাকতেন পরিবারের ৫ জনে মিলে। বাবার ইচ্ছে ছিলো ছেলে যোগ দেবে আর্মিতে। কিন্তু পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকা নিজের বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন পাড়ায় ক্রিকেট খেলেই।২০০৫ সালে একটি সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হলো মায়ের। যেই মা তার ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে ছিলেন সবচেয়ে অনুপ্রেরণা, সেই মা চলে যাওয়ায় তিনি বেশ ভেঙ্গে পড়েন। এবং সিদ্ধান্ত নেন ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ারও। তার এই অবস্থায় তাকে সামাল দেন তার বড় দিদি নয়না।

২০০৮-০৯ মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে অল-রাউন্ড নৈপুণ্যের ফলে জাতীয় নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরফলে ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তার। খেলায় তিনি ৬০ রান করেছে,২০১১ সালে লন্ডনের ওভালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত তৃতীয় একদিবসীয় ক্রিকেট অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে প্রথমে মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং পরবর্তীতে রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে সাথে নিয়ে দলের রানকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান। খেলায় তিনি ৭৮ রান সংগ্রহ করেন। এরপর বোলিং করে দুই উইকেট শিকার করেন ও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। ২০১৪ র লর্ডস টেস্টে ২য় ইনিংসে ভারত ২০৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। জাদেজা ও তার ওপর সঙ্গী ভুবনেশ্বর কুমার ৯৯ রানের জুটি করে ভারতের স্কোর ৩৪২ রানে পৌঁছুতে সাহায্য করে। জাদেজা নিজে ৬৮ রান করেন। ভারত সেই টেস্টে ৯৫ রানে জয় পায়।২০১২ সালে ক্রিকেট ইতিহাসের অষ্টম এবং প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তিনটি ট্রিপল সেঞ্চুরীর অধিকারী হন রবীন্দ্র জাদেজা।