সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। বাঁহাতি ক্রিকেটার সৌরভ গলগোপাধ্যায় অদ্যাবধি ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক বলে বিবেচিত হন; তার অধিনায়কত্বে ভারত ৪৯টি টেস্ট ম্যাচের মধ্যে ২১টি ম্যাচে জয়লাভ করে। ২০০৩ সালের ব্রিকেট বিশ্বকাপে তার অধিনায়কত্বেই ভারত ফাইনালে পৌঁছে যায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কেবলমাত্র একজন আগ্রাসী মনােভাবাপন্ন অধিনায়কই ছিলেন না, তার অধীনে যে সকল তরুণ ক্রিকেটারেরা খেলতেন, তাদের কেরিয়ারের উন্নতিকলেও তিনি প্রভূত সহায়তা করতেন।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন ক্রিকেটার। একদিনের ক্রিকেটে তার মােট রানসংখ্যা এগারাে হাজারেরও বেশি। ফুটবল খেলা দিয়ে জীবন শুরু করলেও পরবর্তীকালে ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয়তার শিখরে অবতীর্ণ হন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯৮৯ সালে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে হাতেখড়ি। তারপর নানান উথান-পতনের মধ্যে দিয়ে অদম্য লড়াকু মানসিকতায় সৌরভ ১১৩টি টেস্ট ম্যাচ, ৩১১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ২৫৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন। ভারতীয় ক্রিকেটের দুঃসময়ে সৌরভ ভারতীয় দলের হাল ধরে ভারতবর্যকে বিশ্বের ক্রিকেট মানচিত্রে অন্যতম সেরা আসনে বসান। টেস্টে মােট ৭২১২ রান, একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১১৩৬৩ রান এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫৬৮৭ রান তার বিশেষ কৃতিত্বের পরিচায়ক। বাংলার ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রােল মডেল হয়ে উঠেছেন সৌরভ গল্যাপাধ্যায়। বােলার হিসেবে তিনি ৩২টি টেস্ট উইকেট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১০০টি উইকেট দখল করেন। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ তিনি ভারত সরকার প্রদত্ত অর্জুন পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে তাকে পদ্মশ্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়াও বালা ক্রিকেটের স্বনামধন্য খেলােয়াড়রা হলেন, পুটু চৌধুরী, নির্মল চট্টোপাধ্যায়, কমল ভট্টাচার্য, চুনী গােঙ্ধামী, দিলীপ দোশি, প্রণব রায়, অরুণলাল, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবা করিম, দেবাং গান্ধি, দীপ দাশগুপ্ত প্রমুখ। বাংলার মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে কুন্তলা ঘােষ দস্তিদার, ঝুলন গােস্বামী প্রমুখের নাম উল্লেখযােগ্য। কুলন গােস্বামী ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে আইসিসি-র সেরা মহিলা খেলােয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ২০১০ খ্রিস্টাব্দে ‘অর্জুন পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০১২-য় পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন।